ক্রিকেটে রান রেট হিসাব হয় মোট রানকে খেলা ওভারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে; আর নেট রান রেট বা এনআরআর হিসাব হয় একটি দলের রান করার গড় থেকে প্রতিপক্ষকে রান দেওয়ার গড় বাদ দিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সি...
ক্রিকেটে রান রেট: দর্শকের পূর্ণ গাইড
ক্রিকেটে রান রেট হিসাব হয় মোট রানকে খেলা ওভারের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে; আর নেট রান রেট বা এনআরআর হিসাব হয় একটি দলের রান করার গড় থেকে প্রতিপক্ষকে রান দেওয়ার গড় বাদ দিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং অন্যান্য সীমিত ওভারের প্রতিযোগিতায় এই পরিসংখ্যান দলীয় অবস্থান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ হিসেবে, ৫০ ওভারে ২৮৭ রান করলে রান রেট ৫.৭৪; একই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ২৪৬ রান করলে তাদের রান রেট ৪.৯২ এবং ব্যবধান ০.৮২। তবে ১৯.৫ ওভার মানে ১৯.৮৩৩ ওভার, ১৯.৫ নয়—এখানেই বেশির ভাগ হিসাব-ভুল হয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতি এবং টুর্নামেন্টের নিজস্ব নিয়ম প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্কোরকার্ড দেখার সময় মোট রান, বৈধ বল এবং ব্যবহৃত ওভার আলাদা করে নোট করুন।

মূল কথা: রান রেটের আসল হিসাব কী?
রান রেটের সরল সূত্র হলো: মোট রান ÷ মোট খেলা ওভার। নেট রান রেটের সূত্র হলো: দলের মোট রান ÷ দলের খেলা ওভার, বিয়োগ প্রতিপক্ষের মোট রান ÷ প্রতিপক্ষের খেলা ওভার। এই দুই সংখ্যাকে গুলিয়ে ফেললে স্কোরবোর্ড দেখে এমন ভাব হবে, যেন ক্যালকুলেটরও ক্রিকেট খেলতে নেমেছে—ভুলটা কিন্তু আপনারই।
একটি ইনিংসে ওভার মানে ছয়টি বৈধ বল। ফলে ২৪ ওভারে ১৪৪ রান হলে রান রেট ১৪৪ ÷ ২৪ = ৬.০০। কিন্তু ২৩ ওভার ৪ বলকে ২৩.৪ ওভার ধরে ভাগ করা যাবে না; সঠিক দশমিক রূপ হলো ২৩ + ৪/৬, অর্থাৎ ২৩.৬৬৭ ওভার। এই পার্থক্য ছোট মনে হলেও ২০২৬ সালের কোনো লিগে নেট রান রেটের টাইব্রেকারে এটি টেবিল বদলে দিতে পারে। উইকিপিডিয়ার নেট রান রেট ব্যাখ্যা-এও সীমিত ওভারের প্রতিযোগিতায় এর ব্যবহার দলীয় অবস্থান নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
ক্রিকেট ভক্ত-এর ম্যাচ পর্যালোচনায় রান রেট দেখার সময় তিনটি জিনিস আগে আলাদা করা হয়: ব্যাটিং দলের রান, বৈধ বলের সংখ্যা এবং প্রতিপক্ষের রান। অতিরিক্ত রান—ওয়াইড, নো-বল, বাই ও লেগ-বাই—দলীয় মোট রানে যুক্ত হয়, যদিও ব্যাটারের ব্যক্তিগত রানে সব সময় যুক্ত হয় না। সুতরাং ৫০ ওভারে ২৫০ রান মানে ৫.০০ রান রেট, রানগুলোর উৎস ব্যাটার না অতিরিক্ত—এই সূত্রের কাছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
আরও পরিষ্কার উদাহরণ দেখতে এই সহায়ক বিষয়টি দেখুন।
খেলোয়াড় ও দর্শক স্কোরবোর্ডে কী দেখেন?
স্কোরবোর্ডে রান রেট সাধারণত বর্তমান ইনিংসের গতি বোঝায়, আর প্রয়োজনীয় রান রেট দেখায় জিততে ব্যাটিং দলকে প্রতি ওভারে কত রান করতে হবে। যেমন, বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১৬০ রান তাড়া করছে এবং ১০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ৭৫; বাকি ১০ ওভারে দরকার ৮৫ রান। তাই প্রয়োজনীয় রান রেট ৮৫ ÷ ১০ = ৮.৫০। বর্তমান রান রেট ৭.৫০ হলেও ম্যাচ শেষ হয়নি—এখানে গতি কম, কিন্তু হিসাব এখনও জীবিত।
নেট রান রেট একটি ম্যাচের মুহূর্তের সংখ্যা নয়; এটি প্রতিযোগিতার জমা হিসাব। ধরুন, পাকিস্তান ৫০ ওভারে ২৮৭ রান করল এবং ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে ২৪৬ রান করল। পাকিস্তানের রান রেট ৫.৭৪, ইংল্যান্ডের ৪.৯২, তাই ওই ম্যাচের ব্যবধান ০.৮২। তবে লিগে পাকিস্তানের আগের ম্যাচগুলোর রান ও ওভারও যুক্ত হবে। এ কারণেই একটি বড় জয় এনআরআর বাড়াতে পারে, আর শেষ দিকে ধীরগতির জয় পয়েন্ট একই রাখলেও সংখ্যাটি নামিয়ে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সীমিত ওভারের প্রতিযোগিতা ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টুর্নামেন্ট নীতিতে সাধারণত দলীয় অবস্থান নির্ধারণে পয়েন্টের পর নেট রান রেট ব্যবহৃত হয়, তবে সুনির্দিষ্ট টাইব্রেকার প্রতিযোগিতাভেদে বদলাতে পারে। ক্রিকেটের খেলা পড়ার প্রাথমিক নির্দেশিকা দেখলে বোঝা যায়, রান রেট শুধু ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য নয়; এটি সময়, ঝুঁকি এবং ফলাফলের গাণিতিক রেকর্ড।
এই মুহূর্তে স্কোরবোর্ড পড়ার সহজ কৌশলটি মনে রাখুন:
- মোট রান দেখুন।
- ওভারকে বৈধ বল হিসেবে রূপান্তর করুন।
- বর্তমান রান রেট ও প্রয়োজনীয় রান রেট আলাদা করুন।
- লিগ টেবিলে এনআরআর দেখলে পুরো টুর্নামেন্টের হিসাব ধরুন।
- বৃষ্টির ম্যাচ হলে ডিএলএস-ভিত্তিক নিয়ম পরীক্ষা করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি বিষয় কী?
রান রেট বোঝার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ই ফল নির্ধারণ করে: বৈধ বলের সঠিক গণনা, দলের মোট রান এবং টুর্নামেন্টের প্রযোজ্য নিয়ম। প্রথমটি ভুল হলে পরের সব হিসাব কাগজে সুন্দর হলেও বাস্তবে আবর্জনা। বিশেষ করে ১৯.৫ ওভারকে ১৯.৫ দিয়ে ভাগ করা নতুন দর্শকের চিরন্তন বিপদ; ক্রিকেটে দশমিকটি সাধারণ দশমিক নয়, এটি বলের গণনা।
প্রথম বিষয়টি হলো ওভার রূপান্তর। ১৭ ওভার ৩ বল = ১৭ + ৩/৬ = ১৭.৫ ওভার, কিন্তু ১৭ ওভার ৫ বল = ১৭.৮৩৩ ওভার। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো সব দলীয় রান অন্তর্ভুক্ত করা; ওয়াইড ও নো-বল স্কোরে যোগ হয়। তৃতীয় বিষয়টি হলো অলআউট ইনিংসের নিয়ম। অনেক সীমিত ওভারের প্রতিযোগিতায় কোনো দল নির্ধারিত ওভারের আগে অলআউট হলে এনআরআর গণনায় তাদের নির্ধারিত পূর্ণ ওভার ধরা হয়, কিন্তু এই নীতি প্রতিযোগিতার খেলার শর্তে যাচাই করতে হবে।
একটি পূর্ণ উদাহরণ নিন। শ্রীলঙ্কা ৪০ ওভারে ২৪০ রান করলে রান রেট ৬.০০। প্রতিপক্ষ ৩৯ ওভার ২ বলে ২২৮ রান করলে ব্যবহৃত বল ২৩৬টি, অর্থাৎ ৩৯.৩৩৩ ওভার; রান রেট প্রায় ৫.৭৯। ম্যাচের ব্যবধান প্রায় ০.২১। এখানে ৩৯.২ ওভারকে ৩৯.২ ধরে নিলে উত্তর বদলে যাবে—ক্যালকুলেটর নয়, ভুল ইনপুটই অপরাধী।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো “জয়” এবং “এনআরআর বৃদ্ধি” এক বিষয় নয়। ১২ রানে জয় পেলে পয়েন্ট পাওয়া যায়, কিন্তু দলের বোলিং গড় খারাপ হলে সামগ্রিক এনআরআর খুব বেশি বাড়বে না। বিপরীতে ৯ উইকেটে দ্রুত জয় রান তাড়া করা দলের ব্যবহৃত ওভার কমিয়ে দেয়, ফলে তাদের রান রেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ক্রিকেট ভক্ত-এর নেট রান রেট বিশ্লেষণ গাইড পড়ার সময় এই আক্রমণাত্মক ফল-প্রভাবটি খেয়াল করুন।
সুতরাং ম্যাচ শেষে এই দ্রুত তালিকা ব্যবহার করুন:
- ২৮৭ ÷ ৫০ = ৫.৭৪।
- ২৩ ওভার ৪ বল = ২৩.৬৬৭ ওভার।
- এনআরআর = নিজেদের রান রেট − প্রতিপক্ষের রান রেট।
- অলআউট হলে নির্ধারিত ওভার ধরা হবে কি না, নিয়মপত্র দেখুন।
- ডিএলএস ম্যাচে সাধারণ সূত্রের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার নির্দেশনা পড়ুন।
এই তিনটি স্তম্ভ পরিষ্কার হলে রান রেটের রহস্য শেষ; বাকি থাকে শুধু ভাগের অঙ্ক।
কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে হিসাব বদলে যায়?
বৃষ্টিতে খেলা কমে গেলে রান রেটের সাধারণ সূত্র একা যথেষ্ট নয়; লক্ষ্য নির্ধারণে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতার খেলার শর্ত প্রযোজ্য হয়। এই ব্যবস্থায় উইকেট ও অবশিষ্ট ওভারকে সম্পদ হিসেবে ধরে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তাই ৫০ ওভারের ম্যাচ ২৮ ওভারে নামলে শুধু পুরোনো লক্ষ্যকে ২৮/৫০ দিয়ে গুণ করা বৈধ পদ্ধতি নয়—এই ভুলটি বন্ধ করুন, দয়া করে।
টাই হওয়া ম্যাচে দুই দলের রান সমান হলেও এনআরআর শূন্য নাও হতে পারে, কারণ প্রতিযোগিতার সামগ্রিক হিসাব আগের ম্যাচসহ তৈরি হয়। সুপার ওভার সাধারণত ম্যাচের বিজয়ী নির্ধারণ করে, কিন্তু এনআরআর-এ সুপার ওভারের রান কীভাবে গণনা হবে, তা টুর্নামেন্টের নিয়মে আলাদা করে লেখা থাকতে পারে। আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় টাইব্রেকারের ক্রম এক নয়; তাই ২০২৬ সালের নির্দিষ্ট আসরের খেলার শর্তই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ।
আরেকটি সূক্ষ্ম বিষয় হলো লক্ষ্য তাড়া করে জয়। দল ১৮০ রানের লক্ষ্য ২৮.৪ ওভারে পেয়ে গেলে তাদের রান রেট হিসাবের জন্য প্রকৃত খেলা ওভার ২৮.৬৬৭, ৩০ নয়। তবে এনআরআর গণনায় সম্পূর্ণ ম্যাচের নির্ধারিত ওভার কীভাবে গণনা হবে, তা প্রতিযোগিতার নিয়মে নির্ভর করতে পারে। অনেক পাঠক এখানে “জয় মানেই পুরো ওভার” ধরে নেন; বাস্তবে সেটিই সব সময় ঠিক নয়।
প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো বলের সংখ্যা দিয়ে হিসাব করা। ৩৪ ওভার ২ বল মানে ২০৬টি বৈধ বল; ওভারে রূপান্তর করতে ২০৬ ÷ ৬ = ৩৪.৩৩৩। এরপর রানকে ৩৪.৩৩৩ দিয়ে ভাগ করুন। যদি স্কোরকার্ডে “ওভার” লেখা থাকে, সেটি ক্রিকেটীয় ফরম্যাটে আছে কি না যাচাই করুন; লাইভ অ্যাপের গোল করা সংখ্যা দেখে অন্ধ বিশ্বাস করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

বিশ্বাসযোগ্য নিয়ম যাচাইয়ের জন্য মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেট আইন এবং সংশ্লিষ্ট আসরের অফিসিয়াল খেলার শর্ত দেখুন। ক্রিকেট আইনের মূল নীতিকে সংক্ষেপে বলা যায়, “একটি বল বৈধ না হলে সেটি ওভারের ছয় বলের অংশ নয়”—এটি ওয়াইড ও নো-বলের হিসাব বোঝার কেন্দ্রীয় নিয়ম। এখানে শিক্ষা একটাই: স্কোরবোর্ডের প্রদর্শন নয়, বৈধ বলের সংখ্যা হলো আসল বস।
আরও উন্নত ম্যাচ-পাঠের জন্য এই সম্পর্কিত বিষয়টি দেখুন।
রায়: কোন সূত্রটি মনে রাখবেন?
সাধারণ রান রেটের জন্য মোট রানকে ব্যবহৃত ওভার দিয়ে ভাগ করুন; নেট রান রেটের জন্য নিজের রান রেট থেকে প্রতিপক্ষের রান রেট বাদ দিন। কিন্তু বাস্তব ম্যাচে সঠিক উত্তর পেতে বৈধ বল, অলআউটের নিয়ম, তাড়া করে জয়ের সময় এবং বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচের ডিএলএস বিধান একসঙ্গে দেখতে হবে। ১৯.৫ ওভারকে ১৯.৫ না ধরে ১৯ ওভার ৫ বল হিসেবে লিখলেই আপনার অর্ধেক ভুল সেদিনই অবসর নেবে।
একটি দ্রুত চূড়ান্ত উদাহরণ: দল ক ৫০ ওভারে ৩০০ রান করলে রান রেট ৬.০০। দল খ ৪৮ ওভার ৩ বলে ২৭৬ রান করলে ২৯১ বল বা ৪৮.৫ ওভার ব্যবহৃত হয়েছে; তাদের রান রেট প্রায় ৫.৬৭, ব্যবধান প্রায় ০.৩৩। তবে লিগ টেবিলের এনআরআর জানতে হলে এই ম্যাচের সঙ্গে আগের সব ম্যাচের মোট রান ও ওভার যোগ করতে হবে। ক্রিকেট ভক্ত-এর ম্যাচ বিশ্লেষণে তাই শুধু জয়-পরাজয় নয়, জয়ের গতি এবং হারের ব্যবধানও দেখা হয়।
মনে রাখার সংক্ষিপ্ত সূত্র:
- রান রেট = মোট রান ÷ ব্যবহৃত ওভার।
- প্রয়োজনীয় রান রেট = বাকি রান ÷ বাকি ওভার।
- এনআরআর = নিজেদের গড় রান রেট − প্রতিপক্ষের গড় রান রেট।
- ৫ বল = ৫/৬ ওভার, দশমিকের ৫ নয়।
- ডিএলএস ও অলআউট নিয়মে আসরের অফিসিয়াল নির্দেশনা চূড়ান্ত।
এই হিসাব বুঝে স্কোরবোর্ড পড়লে ক্রিকেট আর শুধু “কে জিতল” নয়; কখন জিতল, কত দ্রুত জিতল এবং টেবিলে তার মূল্য কত—সবই পরিষ্কার হবে।
আরও ম্যাচভিত্তিক ব্যাখ্যা ও প্রতিদিনের ক্রিকেট তথ্যের জন্য ক্রিকেট ভক্ত-এর সঙ্গে থাকুন।
Frequently Asked Questions
Q: ক্রিকেটে রান রেট কী?
A: ক্রিকেটে রান রেট হলো প্রতি ওভারে একটি দল গড়ে কত রান করেছে। মোট রানকে ব্যবহৃত ওভার দিয়ে ভাগ করলেই এটি পাওয়া যায়, যেমন ২০ ওভারে ১৬০ রান হলে রান রেট ৮.০০। ওয়াইড, নো-বল, বাই ও লেগ-বাই দলীয় মোট রানে যুক্ত হয়। তবে ওভার গণনায় ১৯ ওভার ৪ বলকে ১৯.৪ নয়, ১৯.৬৬৭ ওভার হিসেবে ধরতে হবে।
Q: ক্রিকেটে রান রেট কীভাবে হিসাব করব?
A: মোট রানকে বৈধ বলের ভিত্তিতে গণনা করা ওভার দিয়ে ভাগ করুন। প্রথমে ১৭ ওভার ৩ বলকে ১৭.৫ ওভারে রূপান্তর করুন, তারপর মোট রানকে ১৭.৫ দিয়ে ভাগ করুন। চাইলে আরও নির্ভুলভাবে মোট বৈধ বল ১০৫ দিয়ে ভাগ করে ওভার বের করতে পারেন। লাইভ স্কোরবোর্ডের গোল করা সংখ্যা ব্যবহার না করে অফিসিয়াল স্কোরকার্ড মিলিয়ে নিন।
Q: রান রেট ও নেট রান রেটের পার্থক্য কী?
A: রান রেট একটি ইনিংস বা ম্যাচে প্রতি ওভারে রান করার গড়, আর নেট রান রেট হলো পুরো প্রতিযোগিতায় নিজেদের ও প্রতিপক্ষের রান রেটের ব্যবধান। একটি ম্যাচে ২৮৭ ও ২৪৬ রানের উদাহরণে রান রেট যথাক্রমে ৫.৭৪ ও ৪.৯২, তাই ব্যবধান ০.৮২। লিগ টেবিলের এনআরআর আগের ম্যাচগুলোর সংখ্যাও অন্তর্ভুক্ত করে।
Q: ১৯.৫ ওভার কি ১৯.৫ ওভারই ধরা হয়?
A: না, ক্রিকেটে ১৯.৫ ওভার মানে ১৯ ওভার ৫ বল, অর্থাৎ ১৯ + ৫/৬ = ১৯.৮৩৩ ওভার। কারণ একটি পূর্ণ ওভারে ছয়টি বৈধ বল থাকে এবং স্কোরকার্ডের শেষ সংখ্যাটি দশমিক নয়, বলের সংখ্যা নির্দেশ করে। একইভাবে ১৯.২ ওভার হলো ১৯.৩৩৩ ওভার। এই রূপান্তর ভুল হলে রান রেট ও এনআরআর দুটিই ভুল হবে।
Q: বৃষ্টির ম্যাচে রান রেট কীভাবে হিসাব হয়?
A: বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে লক্ষ্য ও হিসাব সাধারণত ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতি এবং প্রতিযোগিতার খেলার শর্ত অনুসারে নির্ধারিত হয়। শুধু মোট লক্ষ্যকে অবশিষ্ট ওভারের অনুপাতে কমানো সঠিক নয়, কারণ উইকেট ও অবশিষ্ট ওভার উভয়ই বিবেচনা করা হয়। ২০২৬ সালের কোনো আসরে এনআরআর কীভাবে গণনা হবে, তা আইসিসি বা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অফিসিয়াল নথিতে যাচাই করুন।
Q: নেট রান রেট কি জয়ের ব্যবধানের ওপর নির্ভর করে?
A: হ্যাঁ, নেট রান রেট জয়ের গতি এবং হারের ব্যবধান—দুটির ওপরই প্রভাবিত হয়। দ্রুত রান তাড়া করে জিতলে ব্যবহৃত ওভার কমে দলের রান রেট বাড়তে পারে, আর বড় ব্যবধানে হারলে প্রতিপক্ষের গড় রান রেট বাড়ায় এনআরআর কমে। তবে অলআউট, বৃষ্টির ম্যাচ এবং পূর্ণ ওভার গণনার নিয়ম প্রতিযোগিতাভেদে বদলাতে পারে।
Q: রান রেট হিসাব করতে কি কোনো খরচ লাগে?
A: না, ক্রিকেটে রান রেট হিসাব করতে কোনো খরচ লাগে না; কাগজ, ক্যালকুলেটর বা সাধারণ স্প্রেডশিটই যথেষ্ট। মোট রান, বৈধ বল এবং প্রতিপক্ষের একই তথ্য সংগ্রহ করলেই এনআরআর বের করা যায়। তবে অফিসিয়াল লিগ টেবিলের জন্য আইসিসি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট টুর্নামেন্টের প্রকাশিত খেলার শর্ত ব্যবহার করুন, কারণ নিয়মভেদে ফল আলাদা হতে পারে।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
ক্রিকেট ভক্ত · Curated Silence · 2026