ক্রিকেট ব্যাটের গ্রিপ বদলানোর সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো পুরোনো গ্রিপ খুলে ব্যাটের হ্যান্ডেল পরিষ্কার করে নতুন গ্রিপ টানটানভাবে বসানো। ক্রিকেট ভক্ত-এর এই নির্দেশিকায় ঢাকা ও বাংলাদেশের ক্লাব ক্রিকেটে ব্...
২০২৬ ক্রিকেট ব্যাটের গ্রিপ: ৫টি কার্যকর কৌশল
ক্রিকেট ব্যাটের গ্রিপ বদলানোর সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো পুরোনো গ্রিপ খুলে ব্যাটের হ্যান্ডেল পরিষ্কার করে নতুন গ্রিপ টানটানভাবে বসানো। ক্রিকেট ভক্ত-এর এই নির্দেশিকায় ঢাকা ও বাংলাদেশের ক্লাব ক্রিকেটে ব্যবহৃত সাধারণ ব্যাট, যেমন এসএস, এমআরএফ, ডিএসসি ও গ্রে-নিকলস মডেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য প্রক্রিয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। পুরো কাজটি সাধারণত ১০–১৫ মিনিটে শেষ হয়, তবে গ্রিপের রাবার, হ্যান্ডেলের আকার এবং নিচের শঙ্কু বা ক্যাপের ধরন অনুযায়ী সময় বদলাতে পারে। নতুন গ্রিপ বসানোর আগে ব্যাটের হ্যান্ডেলে ফাটল আছে কি না, পুরোনো আঠা জমে আছে কি না এবং গ্রিপের দৈর্ঘ্য ২৫–৩০ সেন্টিমিটারের সঙ্গে মানানসই কি না পরীক্ষা করুন। ভুলভাবে টানা গ্রিপ শটের সময় ঘুরে যেতে পারে, হাতের তালুতে ফোস্কা ফেলতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণ নষ্ট করতে পারে। তাই ধাপ মেনে কাজ করুন, অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করবেন না, এবং শেষে ৩০ মিনিট ব্যাটটি বিশ্রামে রাখুন।
কাজটি শুরু করার আগে ক্রিকেট ভক্ত-এর ব্যাটিং ও সরঞ্জামবিষয়ক অন্যান্য নির্দেশিকাও দেখে নিতে পারেন।

সারকথা: গ্রিপ বদলানোর আগে কোন বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি?
ব্যাটের হ্যান্ডেল অক্ষত আছে কি না পরীক্ষা করাই গ্রিপ বদলানোর আগে সবচেয়ে জরুরি ধাপ। হ্যান্ডেলে ফাটল, আলগা কাঠ, ধারালো প্রান্ত বা অতিরিক্ত আঠা থাকলে নতুন গ্রিপ বসালেও ব্যাট নিরাপদ হবে না। গ্রিপ নির্বাচন করার সময় ব্যাটের হাতলের ব্যাস, খেলোয়াড়ের হাতের আকার এবং ব্যাটিংয়ের ধরন মিলিয়ে নিন।
শুনুন, এটাই আসল ব্যাপার: নতুন গ্রিপ কেবল দেখতে সুন্দর করার উপকরণ নয়; এটি কবজি, নিচের হাত এবং ব্যাটের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করে। খুব মোটা গ্রিপে কবজির নড়াচড়া কমে, আবার খুব পাতলা গ্রিপে ব্যাট তালুতে ঘুরে যেতে পারে। এসএস, এমআরএফ, ডিএসসি বা কুকাবুরা—ব্র্যান্ড যাই হোক, গ্রিপের বসানো ঠিক না হলে দামি ব্যাটও মাঠে দুর্বল আচরণ করবে। ক্রিকেট ব্যাট বেছে নেওয়ার পূর্ণ নির্দেশিকা পড়ে কাঠ, ওজন ও হ্যান্ডেলের ধরনও মিলিয়ে নিন।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা
- নতুন ক্রিকেট ব্যাট গ্রিপ, দৈর্ঘ্য সাধারণত ২৫–৩০ সেন্টিমিটার
- ভোঁতা প্রান্তের কাঁচি বা গ্রিপ কাটার
- পরিষ্কার শুকনো কাপড়
- সামান্য পানি অথবা অনুমোদিত গ্রিপ-স্লিপ দ্রবণ
- প্রয়োজনে পাতলা গ্রিপ-কোন বা নিচের রাবার ক্যাপ
- পরিষ্কার কাজের টেবিল ও ভালো আলো
পুরোনো গ্রিপ কাটার সময় ধারালো ছুরি সরাসরি কাঠের দিকে চালাবেন না। এই ছোট ভুলেই হ্যান্ডেলে দাগ পড়ে, কাঠ কেটে যায়, আর তারপর ব্যাট মেরামতের বিল দেখে আপনার মুখের স্কোরবোর্ড শূন্য হয়ে যাবে।
খেলোয়াড়েরা বাস্তবে কী সমস্যার মুখোমুখি হন?
ক্রিকেট ব্যাটের গ্রিপ বদলানোর সময় খেলোয়াড়েরা সাধারণত তিনটি সমস্যা দেখেন: পুরোনো গ্রিপ শক্ত হয়ে যাওয়া, নতুন গ্রিপ অসমভাবে বসা এবং নিচের প্রান্তে গ্রিপ খুলে যাওয়া। এসব সমস্যা বেশি দেখা যায় যখন গ্রিপের ভেতরে ধুলো থাকে, ব্যাটের হ্যান্ডেল ভেজা থাকে বা টান দেওয়ার সময় চাপ একদিকে বেশি পড়ে।
পুরোনো গ্রিপে ঘাম, ধুলা এবং রাবারের ক্ষয় জমে গেলে সেটি চকচকে ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। ঢাকার আর্দ্র আবহাওয়া এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মতো দীর্ঘ অনুশীলন সূচিতে এই ক্ষয় দ্রুত হতে পারে। গ্রিপের রঙ বিবর্ণ হওয়া একমাত্র সংকেত নয়; আঙুলের অবস্থানে চাপের দাগ, নিচের অংশ ফুলে ওঠা এবং শট খেলার সময় সামান্য ঘূর্ণনও বদলের কারণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সরঞ্জামসংক্রান্ত নীতিতে ব্যাটের গঠন ও নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, যদিও নির্দিষ্ট গ্রিপ বদলের পদ্ধতি সেখানে বলা নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সরঞ্জামবিষয়ক তথ্য দেখলে ব্যাটের সামগ্রিক নিয়ম সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
নতুন গ্রিপ বসানোর আগে নিচের পরীক্ষা করুন:
- গ্রিপ চেপে ধরলে রাবার কি দ্রুত আগের আকারে ফিরে আসে?
- ব্যাটের হ্যান্ডেল কি সোজা এবং ফাটলমুক্ত?
- গ্রিপের দৈর্ঘ্য কি নিচের ক্যাপ ঢাকার মতো যথেষ্ট?
- আপনার নিচের হাত কি অতিরিক্ত চাপ না দিয়েও ব্যাট নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে?
“ব্যাটের সরঞ্জাম অবশ্যই নিরাপদ, উপযুক্ত এবং খেলার জন্য উপযোগী হতে হবে”—মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইনসংক্রান্ত নীতির এই সারকথা গ্রিপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেট আইন পড়ে সরঞ্জাম ব্যবহারের মৌলিক কাঠামো বুঝতে পারেন।
যদি আপনার ব্যাটে নিচের রাবার ক্যাপ না থাকে, তবে গ্রিপ বসানোর আগে আলাদা ক্যাপ লাগবে কি না তা পরীক্ষা করুন।

গ্রিপ বদলানোর ৩টি বিষয় কেন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
গ্রিপ বদলানোর সময় সঠিক মাপ, সমান টান এবং শুকনো হ্যান্ডেল—এই তিনটি বিষয় ফল নির্ধারণ করে। একটি গ্রিপ দেখতে ঠিকঠাক হলেও যদি হ্যান্ডেলের সঙ্গে সমানভাবে বসানো না হয়, তবে ব্যাটিংয়ের সময় সেটি ঘুরে যেতে পারে। তাই ব্র্যান্ডের চেয়ে বসানোর কৌশল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
১. সঠিক গ্রিপ নির্বাচন
গ্রিপের পুরুত্ব হাতের আকার ও ব্যাটিং ভঙ্গির সঙ্গে মিলতে হবে। ছোট হাতের খেলোয়াড় বা জুনিয়র ব্যাটারের জন্য পাতলা গ্রিপ সাধারণত নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়; বড় হাত বা শক্তিশালী পুল-হুক খেলোয়াড়ের জন্য মাঝারি পুরুত্ব আরাম দিতে পারে। তবে এটি কঠোর নিয়ম নয়। এসএস, এমআরএফ, ডিএসসি, গ্রে-নিকলস এবং কুকাবুরার গ্রিপে রাবারের ঘনত্ব ও প্যাটার্ন আলাদা হতে পারে, তাই শুধু রঙ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
একটি কার্যকর পরীক্ষা হলো ব্যাট ধরে স্বাভাবিক অবস্থায় দাঁড়িয়ে কবজি নাড়ানো। হাত শক্ত করে চেপে ধরতে হলে গ্রিপ খুব পাতলা হতে পারে; আবার আঙুল পুরোপুরি জড়াতে না পারলে গ্রিপ অতিরিক্ত মোটা। নতুন গ্রিপের ভেতরের ব্যাস হ্যান্ডেলের চেয়ে সামান্য বড় হওয়া স্বাভাবিক, কারণ বসানোর সময় সেটি সংকুচিত হবে। ব্যাটিংয়ে নিচের হাতের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কৌশল এই বিষয়টি আরও পরিষ্কার করবে।
২. সমান টান বজায় রাখা
গ্রিপ বসানোর সময় একসঙ্গে পুরোটা টেনে নামানোর চেষ্টা করবেন না। এতে রাবার একদিকে বেশি প্রসারিত হয় এবং মাঝখানে ঢেউ তৈরি হয়। নিচের অংশ থেকে ধীরে ধীরে এক-তৃতীয়াংশ করে টেনে বসান। প্রতিটি অংশ বসানোর পর ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দেখুন, কোথাও ভাঁজ বা ফাঁক আছে কি না।
প্রথমে গ্রিপটি উল্টো করে ভেতরের অংশ বাইরে আনুন। তারপর নিচের প্রান্তটি ব্যাটের হ্যান্ডেলে আটকে ধীরে ধীরে রাবার গুটিয়ে ওপরে তুলুন। পানি ব্যবহার করলে খুব সামান্য ব্যবহার করুন; অতিরিক্ত তরল কাঠের হ্যান্ডেল ভিজিয়ে দিতে পারে এবং শুকাতে ৩০ মিনিটের বদলে কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে। গৃহস্থালি তেল, সাবান বা পেট্রোল ব্যবহার করা যাবে না—এগুলো রাবার নরম করে, পিচ্ছিলতা বাড়ায় এবং আঠার বন্ধন দুর্বল করে।
৩. হ্যান্ডেল শুকনো ও পরিষ্কার রাখা
গ্রিপ বদলের আগে শুকনো কাপড় দিয়ে হ্যান্ডেল মুছে নিন। পুরোনো আঠা থাকলে কাঠ না কেটে প্লাস্টিকের ভোঁতা প্রান্ত দিয়ে তা তুলুন। হ্যান্ডেলে বালির কণা বা কাঠের গুঁড়া থাকলে নতুন গ্রিপের ভেতরে ঘর্ষণ তৈরি হবে, ফলে কয়েক ওভার পরেই গ্রিপ সরে যেতে পারে।
শুকনো হ্যান্ডেল মানে একেবারে রুক্ষ কাঠ নয়; বরং আর্দ্রতা, ঘাম ও রাসায়নিক অবশিষ্টাংশমুক্ত পৃষ্ঠ। বর্ষাকালে বাংলাদেশে ব্যাট সংরক্ষণের সময় সিলিকা জেলসহ ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু ব্যাটকে অতিরিক্ত গরম রোদে রাখা যাবে না। কাঠ দ্রুত শুকিয়ে গেলে ফাটল তৈরি হতে পারে। ক্রিকেট ভক্ত-এর সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে বর্ষাকালে ক্রিকেট ব্যাট সংরক্ষণের নিয়ম যুক্ত করলে পাঠকের জন্য ধারাবাহিক সহায়তা তৈরি হবে।
এখন হাতে-কলমে ধাপগুলো অনুসরণ করুন; এখানে তাড়াহুড়ো করলে পরে মাঠে গ্রিপ নিয়ে কুস্তি করতে হবে।
ধাপে ধাপে কীভাবে গ্রিপ বদলাবেন?
ক্রিকেট ব্যাটের গ্রিপ বদলাতে প্রথমে পুরোনো গ্রিপ সরিয়ে হ্যান্ডেল পরিষ্কার করতে হবে, তারপর নতুন গ্রিপকে উল্টো করে নিচের অংশ থেকে ধীরে ধীরে ওপরে তুলতে হবে। শেষ ধাপে গ্রিপের প্রান্ত সমান করে বসিয়ে ৩০ মিনিট শুকাতে দিন। পুরো কাজের জন্য সাধারণত ১০–১৫ মিনিট যথেষ্ট।
ধাপ ১: পুরোনো গ্রিপ খুলুন
ব্যাটটি সমতল টেবিলে রাখুন এবং নিচের ক্যাপ বা গ্রিপ-কোন থাকলে আলাদা করুন। গ্রিপের নিচের অংশে ছোট কাট দিন, তারপর হাত দিয়ে ধীরে ধীরে রাবার টেনে খুলুন। রাবার শক্ত হয়ে থাকলে জোরে ছিঁড়বেন না; এতে হ্যান্ডেলের কাঠ উঠে আসতে পারে।
গ্রিপ যদি আঠা দিয়ে স্থায়ীভাবে আটকানো থাকে, তবে ভোঁতা গ্রিপ-কাটার ব্যবহার করুন। কাটারটি ব্যাটের হ্যান্ডেলের সমান্তরালে রাখুন, কাঠের দিকে নামাবেন না। হ্যান্ডেলের যে অংশটি নিচের হাতে থাকে সেখানে ক্ষত হলেও অনুভূতি বদলে যেতে পারে, বিশেষ করে কাভার ড্রাইভ বা ফ্লিক শটে। পুরোনো গ্রিপ খুলে সঙ্গে সঙ্গে ফেলে না দিয়ে দেখুন কোথায় বেশি ক্ষয় হয়েছে; সেই দাগ আপনার হাতে চাপের ধরন বোঝায়।
ধাপ ২: হ্যান্ডেল পরীক্ষা ও পরিষ্কার করুন
কাঠে ফাটল, বাঁক, আলগা তন্তু বা কালো আর্দ্রতার দাগ দেখুন। ছোট আঁচড় সাধারণত গুরুতর নয়, কিন্তু লম্বালম্বি ফাটল থাকলে নতুন গ্রিপ বসিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। ব্যাটের ওজন ১.১ থেকে ১.৩ কিলোগ্রামের মধ্যে হলেও হ্যান্ডেলের দুর্বলতা আলাদা বিষয়; ভারী ব্যাট মানেই শক্ত হ্যান্ডেল নয়।
পরিষ্কার শুকনো কাপড় দিয়ে ধুলো সরান। আঠার অবশিষ্টাংশ থাকলে অল্প উষ্ণ বাতাস ব্যবহার করা যায়, কিন্তু হেয়ার ড্রায়ার কাঠের খুব কাছে ধরবেন না। উত্তাপ সরাসরি দিলে হ্যান্ডেলের আঠা নরম হয়ে যেতে পারে। মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন অনুযায়ী ব্যাটের আকার ও উপাদান নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকা জরুরি, তাই মেরামতের নামে হ্যান্ডেল ঘষে পাতলা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
ধাপ ৩: নতুন গ্রিপ উল্টো করুন
নতুন গ্রিপের ভেতর অংশ বাইরে আনতে সেটিকে মোজার মতো উল্টো করে গুটিয়ে নিন। নিচের প্রান্তটি যতটা সম্ভব ছোট ও শক্ত করে রাখুন। এই কৌশলে হ্যান্ডেলে গ্রিপ বসানো সহজ হয় এবং রাবার অযথা টেনে লম্বা হয়ে যায় না।
কিছু গ্রিপে সর্পিল নকশা থাকে, কিছুতে ছোট বিন্দু বা উঁচু রেখা থাকে। নকশাটি হ্যান্ডেলের চারপাশে সমান দূরত্বে রাখতে হবে। একদিকে রেখা ঘন আর অন্যদিকে ফাঁকা হলে বুঝবেন গ্রিপ বেঁকে বসেছে। এখানে বন্ধুর মতো সতর্কতা: চোখ বন্ধ করে টেনে দিলেই গ্রিপ বসে না; সেটি কেবল ব্যাটকে নতুন পোশাক পরানো, ঠিকমতো মাপ নেওয়া নয়।
ধাপ ৪: নিচ থেকে ওপরে বসান
গ্রিপের নিচের প্রান্ত ব্যাটের হ্যান্ডেলের শেষ অংশে আটকে রাখুন। এরপর ৫–৭ সেন্টিমিটার করে গ্রিপ গুটিয়ে ওপরে তুলুন। প্রতিটি অংশ বসানোর পর দুই হাত দিয়ে চারপাশ চাপুন, যাতে বাতাসের ফাঁক না থাকে। যদি গ্রিপ আটকে যায়, অল্প পানি বা প্রস্তুতকারকের অনুমোদিত স্লিপ দ্রবণ ব্যবহার করুন।
এসএস বা এমআরএফের মতো পুরু রাবার গ্রিপে বেশি চাপ লাগতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত টান দিলে এটি পরে সঙ্কুচিত হয়ে নিচের অংশ ওপরে উঠতে পারে। গ্রিপ পুরোটা বসানোর পর নিচের প্রান্তে ২–৩ সেন্টিমিটার বাড়তি অংশ থাকলে তা সমানভাবে ভাঁজ করে ক্যাপের নিচে ঢোকান। অতিরিক্ত রাবার কেটে ফেলতে হলে একবারে বড় অংশ কাটবেন না; ২–৩ মিলিমিটার করে ছাঁটাই করুন।
ধাপ ৫: শেষ পরীক্ষা ও শুকানো
গ্রিপ বসানোর পর ব্যাটটি সোজা করে ধরুন। গ্রিপের সর্পিল রেখা, প্রান্ত, ভাঁজ এবং নিচের ক্যাপের অবস্থান পরীক্ষা করুন। হাত দিয়ে ১০–১৫ বার হালকা ঘুরিয়ে দেখুন; গ্রিপ নড়লে এখনই ঠিক করুন। পরে শুকিয়ে গেলে সংশোধন করা কঠিন হবে।
শেষে ব্যাটটি ছায়াযুক্ত, বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে ৩০ মিনিট রাখুন। ভেজা গ্রিপ নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নেটে গেলে আর্দ্রতা, ধুলো ও ঘাম ভেতরে ঢুকে বন্ধন দুর্বল করবে। অনুশীলনের আগে পুরোনো নরম বল দিয়ে ১০–১৫টি হালকা শট খেলে অনুভূতি পরীক্ষা করা যায়; প্রথম দিন সরাসরি দ্রুত বোলিংয়ে ঝাঁপ দেওয়া জরুরি নয়।
এই ধাপগুলো সংরক্ষণ করে রাখুন, কারণ গ্রিপের সমস্যা ম্যাচের মাঝখানে দেখা দিলে কোনো স্কোরকার্ড আপনাকে বাঁচাবে না।

কোন ভুলগুলো গ্রিপ নষ্ট করে দেয়?
সবচেয়ে ক্ষতিকর ভুল হলো তেল বা সাবান ব্যবহার করা, হ্যান্ডেল ভেজা রেখে গ্রিপ বসানো এবং রাবারকে একদিকে অতিরিক্ত টেনে দেওয়া। এসব ভুলে গ্রিপ প্রথম দিন ঠিক দেখালেও কয়েকটি নেট সেশনের পর ঘুরে যেতে পারে। ব্যাটের হ্যান্ডেলে আঠা লাগালেই সমস্যা সমাধান হয় না; ভুল আঠা কাঠ ও রাবার দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
প্রচলিত ভুলের তালিকা
- রান্নার তেল, সরিষার তেল বা পেট্রোল দিয়ে গ্রিপ ঢোকানো
- ধারালো ছুরি দিয়ে সরাসরি হ্যান্ডেল কাটা
- গ্রিপ পুরোপুরি শুকানোর আগে ম্যাচ খেলা
- অতিরিক্ত মোটা দ্বিতীয় গ্রিপ বসিয়ে হাতের আকার উপেক্ষা করা
- নিচের প্রান্ত অসমভাবে কেটে ফেলা
- ফাটলযুক্ত হ্যান্ডেল ঢেকে রেখে খেলা চালিয়ে যাওয়া
- ব্যাটকে গরম গাড়ির ভেতর বা সরাসরি রোদে রাখা
দ্বিতীয় গ্রিপ কিছু ব্যাটারে আরাম দিতে পারে, কিন্তু এটি সব সমস্যার ওষুধ নয়। প্রথম গ্রিপই যদি ঢিলা থাকে, তার ওপর আরেকটি গ্রিপ বসালে নড়াচড়া আরও লুকিয়ে থাকবে। এই তথ্যটি বেশিরভাগ সাধারণ নির্দেশিকায় বাদ পড়ে: দ্বৈত গ্রিপে হ্যান্ডেলের ব্যাস ৩–৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে, ফলে নিচের হাতের অবস্থান বদলে যায় এবং ব্যাকলিফটের অনুভূতি পাল্টায়। তাই দ্বিতীয় গ্রিপ বসানোর আগে পুরোনো গ্রিপ খুলে নতুন বেস গ্রিপ বসানোই ভালো।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তিক পরিস্থিতি হলো বামহাতি ও ডানহাতি ব্যাটারের পার্থক্য নয়, বরং গ্রিপের নকশা। কিছু সর্পিল গ্রিপ যেকোনো দিকে বসানো যায়, কিন্তু কিছু উঁচু-নিচু প্যাটার্ন নির্দিষ্ট দিকে আরাম দেয়। তাই গ্রিপের শেষ অংশে চিহ্ন থাকলে সেটি ব্যাটের মুখ ও হাতের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করুন। ক্রিকেট ব্যাটের সাধারণ মেরামত সমস্যা ও সমাধান এই বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।
গ্রিপ নষ্ট হলে কীভাবে বুঝবেন এবং কখন বদলাবেন?
গ্রিপের পৃষ্ঠ পিচ্ছিল হওয়া, হাতলে ঘুরে যাওয়া, ফাটল তৈরি হওয়া বা রাবারের অংশ ফুলে ওঠা—এই চারটি লক্ষণ দেখা দিলে গ্রিপ বদলানো উচিত। নির্দিষ্ট ওভারসংখ্যা সবার জন্য একই নয়, কারণ ঘাম, আবহাওয়া, অনুশীলনের সময় এবং গ্রিপের মান বদলায়। নিয়মিত খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে ৩–৬ মাস অন্তর পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত।
যদি প্রতি সপ্তাহে চারটি নেট সেশন, প্রতিটি ৯০ মিনিট করে হয়, তবে গ্রিপে দ্রুত ঘর্ষণ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অন্যদিকে মাসে দুবার খেলা খেলোয়াড়ের গ্রিপ ৬–১২ মাসও টিকতে পারে। সময়ের চেয়ে অনুভূতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাতের তালুতে চাপের দাগ, শটের সময় ব্যাট সামান্য ঘোরা বা নিচের প্রান্তে রাবার উঠে আসা মানে বদলের সময় চলে এসেছে।
কিছু খেলোয়াড় শুধু ঘাম শোষণের জন্য ওভারগ্রিপ ব্যবহার করেন। এটি মূল গ্রিপের বিকল্প নয়। ওভারগ্রিপ বদলানো সহজ এবং ২–৪ সপ্তাহ পরপর করা যেতে পারে, কিন্তু নিচের বেস গ্রিপ নড়লে পুরো গ্রিপ বদলাতে হবে। গ্রিপের রঙ বা ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা দেখে সিদ্ধান্ত নিলে হবে না; এসএসের একটি নরম গ্রিপ একজনের জন্য ভালো হলেও ডিএসসির শক্ত গ্রিপ অন্যজনের হাতে বেশি স্থির হতে পারে।
গ্রিপের আয়ু বাড়ানোর উপায়
- প্রতিটি অনুশীলনের পর শুকনো কাপড়ে গ্রিপ মুছুন।
- ব্যাট ব্যাগে রাখার আগে ঘাম শুকাতে দিন।
- ভেজা মাঠ বা বৃষ্টির পর ব্যাট খোলা অবস্থায় রাখুন।
- গরম গাড়ি, জানালার ধারে রোদ এবং স্যাঁতসেঁতে মেঝে এড়িয়ে চলুন।
- একই ব্যাটে একাধিক খেলোয়াড়ের ঘামযুক্ত হাত ব্যবহার কমান।
- প্রতি মাসে গ্রিপ ঘুরছে কি না হাতে পরীক্ষা করুন।
একটি বাস্তবসম্মত সংরক্ষণ কৌশল হলো ব্যাটের সঙ্গে আর্দ্রতা শোষক প্যাক রাখা, তবে প্যাকটি কাঠের সরাসরি গায়ে আটকে রাখবেন না। অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশও কাঠের জন্য ভালো নয়। ব্যাটের কাঠ, গ্রিপ ও ব্যাটিং গ্লাভস—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রাখাই দীর্ঘস্থায়িত্বের মূল।
শেষ সিদ্ধান্ত: নিজে গ্রিপ বদলাবেন, নাকি দোকানে যাবেন?
সোজা হ্যান্ডেল, সাধারণ গ্রিপ এবং সামান্য সরঞ্জাম থাকলে বাড়িতে গ্রিপ বদলানো নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। তবে হ্যান্ডেলে ফাটল, স্থায়ী আঠা, বাঁক বা ব্যাটের কাঠ আলগা থাকলে পেশাদার ব্যাট-মেরামতকারীর কাছে যাওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত। ক্রিকেট ভক্ত-এর পরামর্শ হলো—গ্রিপ বদলানোর আগে হ্যান্ডেল পরীক্ষা করুন, গ্রিপের পুরুত্ব হাতের সঙ্গে মিলিয়ে নিন এবং বসানোর পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো পুরোনো গ্রিপ ধীরে খুলে পরিষ্কার পৃষ্ঠ তৈরি করা, নতুন গ্রিপ উল্টো করে নিচ থেকে ওপরে বসানো এবং প্রতিটি অংশে সমান টান রাখা। গ্রিপ বসানোর পর ব্যাটের ওজন বদলাবে না, কিন্তু হাতের অনুভূতি বদলাতে পারে; তাই ম্যাচের আগের রাতে নতুন গ্রিপ লাগিয়ে সরাসরি মাঠে যাবেন না। ১০–১৫ মিনিটের নেট সেশন যথেষ্ট প্রাথমিক পরীক্ষা দিতে পারে।
মনে রাখুন, গ্রিপ কোনো সাজসজ্জা নয়। এটি ব্যাটের নিয়ন্ত্রণ, কবজির কাজ এবং শটের আত্মবিশ্বাসের অংশ। ভুল গ্রিপের জন্য আপনার অফ-ড্রাইভকে দোষ দেবেন না—দোষটা অনেক সময় নিচের রাবারেই বসে থাকে।
আরও ব্যাটিং কৌশল, সরঞ্জাম বিশ্লেষণ ও বাংলাদেশ ক্রিকেটের দৈনিক তথ্যের জন্য ক্রিকেট ভক্ত-এর পরবর্তী নির্দেশিকাটি দেখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: ক্রিকেট ব্যাটের গ্রিপ কী?
উত্তর: ক্রিকেট ব্যাটের গ্রিপ হলো হ্যান্ডেলের ওপর বসানো রাবার বা সিন্থেটিক আবরণ, যা হাতের আরাম ও ব্যাটের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। এটি ঘাম কমায়, হাত পিছলে যাওয়া রোধ করে এবং শট খেলার সময় কম্পন কিছুটা শোষণ করে। সাধারণ গ্রিপের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫–৩০ সেন্টিমিটার হলেও ব্র্যান্ড ও ব্যাটের মডেল অনুযায়ী মাপ বদলাতে পারে। এসএস, এমআরএফ, ডিএসসি ও কুকাবুরার গ্রিপে প্যাটার্ন এবং পুরুত্ব আলাদা হতে পারে।
প্রশ্ন: ক্রিকেট ব্যাটের গ্রিপ কীভাবে বদলাব?
উত্তর: পুরোনো গ্রিপ খুলে হ্যান্ডেল পরিষ্কার করে নতুন গ্রিপ উল্টোভাবে নিচ থেকে ওপরে বসাতে হবে। প্রতি ৫–৭ সেন্টিমিটার অংশ সমানভাবে টেনে বসান এবং ভাঁজ বা বাতাসের ফাঁক আছে কি না দেখুন। প্রয়োজনে অল্প পানি ব্যবহার করুন, কিন্তু তেল, সাবান বা পেট্রোল ব্যবহার করবেন না। গ্রিপ বসানোর পর ব্যাটটি অন্তত ৩০ মিনিট ছায়ায় রাখুন।
প্রশ্ন: পাতলা গ্রিপ আর মোটা গ্রিপের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: পাতলা গ্রিপ সাধারণত কবজির নড়াচড়া ও ব্যাটের সরাসরি অনুভূতি বাড়ায়, আর মোটা গ্রিপ হাতের চাপ কমিয়ে স্থিরতা দিতে পারে। ছোট হাতের খেলোয়াড়রা পাতলা গ্রিপে স্বাচ্ছন্দ্য পেতে পারেন, তবে এটি সবার জন্য একই নয়। খুব মোটা গ্রিপে ব্যাটের হ্যান্ডেল ঘোরানো কঠিন হতে পারে, আর খুব পাতলা গ্রিপে শটের সময় ব্যাট তালুতে ঘুরে যেতে পারে।
প্রশ্ন: নতুন গ্রিপ বসানোর পরও কেন ব্যাটের হ্যান্ডেল ঘোরে?
উত্তর: হ্যান্ডেল ঘোরার প্রধান কারণ হলো গ্রিপের ভেতরে ধুলো, অসম টান, ভেজা পৃষ্ঠ বা ভুল মাপ। গ্রিপ খুলে হ্যান্ডেল শুকনো কাপড়ে পরিষ্কার করুন এবং নতুন গ্রিপটি নিচ থেকে সমানভাবে বসান। যদি হ্যান্ডেলে ফাটল থাকে, শুধু গ্রিপ বদলালে সমস্যা সমাধান হবে না। ১০–১৫ বার হালকা হাতে ঘুরিয়ে পরীক্ষা করুন এবং নড়াচড়া থাকলে ম্যাচে ব্যবহার করবেন না।
প্রশ্ন: ক্রিকেট ব্যাটের গ্রিপ বদলাতে কত খরচ হয়?
উত্তর: গ্রিপের দাম সাধারণত ১৫০–৮০০ টাকা এবং দোকানে বসানোর শ্রমসহ মোট খরচ প্রায় ২৫০–১,০০০ টাকা হতে পারে। সাধারণ রাবার গ্রিপের দাম কম, আর আমদানিকৃত বা বিশেষ প্যাটার্নের গ্রিপের দাম বেশি। অনলাইন বা দোকান থেকে কেনার আগে দৈর্ঘ্য, পুরুত্ব, ব্র্যান্ড এবং নিচের ক্যাপের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করুন। বাড়িতে বদলালে শ্রম খরচ বাঁচে, তবে হ্যান্ডেল ক্ষতির ঝুঁকি থাকলে দোকানের সেবা বেশি নিরাপদ।
প্রশ্ন: কতদিন পর ক্রিকেট ব্যাটের গ্রিপ বদলানো উচিত?
উত্তর: নিয়মিত খেলোয়াড়ের গ্রিপ সাধারণত ৩–৬ মাস পরপর পরীক্ষা করা উচিত, তবে ক্ষয় দেখা দিলে তার আগেই বদলাতে হবে। সপ্তাহে চারটি ৯০ মিনিটের অনুশীলন হলে ঘাম ও ঘর্ষণের কারণে গ্রিপ দ্রুত নষ্ট হতে পারে। মাসে দুবার খেলা খেলোয়াড়ের গ্রিপ ৬–১২ মাস টিকতে পারে। পিচ্ছিলতা, ফাটল, ফুলে ওঠা বা হাতলে ঘুরে যাওয়া—এই লক্ষণগুলো সময়ের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য।
প্রশ্ন: গ্রিপের ওপর দ্বিতীয় গ্রিপ বসানো কি ভালো?
উত্তর: দ্বিতীয় গ্রিপ হাতের আরাম ও ব্যাস বাড়াতে পারে, কিন্তু এটি সব খেলোয়াড়ের জন্য ভালো নয়। এতে হ্যান্ডেলের ব্যাস প্রায় ৩–৫ মিলিমিটার বাড়তে পারে, ফলে নিচের হাতের অবস্থান এবং কবজির কাজ বদলে যায়। প্রথম গ্রিপ ঢিলা থাকলে তার ওপর দ্বিতীয় গ্রিপ বসাবেন না; আগে বেস গ্রিপ ঠিক করুন। নতুন গ্রিপের পর ১০–১৫ মিনিট নেটে ব্যাটিং করে নিয়ন্ত্রণ ও আরাম পরীক্ষা করুন।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
ক্রিকেট ভক্ত · Curated Silence · 2026