মূল বিষয়বস্তুতে যান মূল বিষয়বস্তুতে যান
স্থাপত্য ও নকশা

নতুন ভক্তদের জন্য স্কোরকার্ড পড়ার গাইড ২০২৬

ক্রিকেট স্কোরকার্ড পড়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পাঁচ ধাপ মেনে চলা: আগে ম্যাচের ফলাফল দেখুন, তারপর ব্যাটিং কার্ড, আউটের বিবরণ, বোলিং ফিগার ও এক্সট্রা পড়ুন, শেষে যোগফল মিলিয়ে নিন। ক্রিকেট ভক্ত-এর পাঠকদ...

৫ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read
নতুন ভক্তদের জন্য স্কোরকার্ড পড়ার গাইড ২০২৬

নতুন ভক্তদের জন্য স্কোরকার্ড পড়ার গাইড ২০২৬

ক্রিকেট স্কোরকার্ড পড়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পাঁচ ধাপ মেনে চলা: আগে ম্যাচের ফলাফল দেখুন, তারপর ব্যাটিং কার্ড, আউটের বিবরণ, বোলিং ফিগার ও এক্সট্রা পড়ুন, শেষে যোগফল মিলিয়ে নিন। ক্রিকেট ভক্ত-এর পাঠকদের জন্য বাংলাদেশসহ পুরো উপমহাদেশের ম্যাচে এই পদ্ধতি একইভাবে কাজ করে। মনে রাখুন তিনটি মূল সূত্র: স্ট্রাইক রেট = (রান ÷ বল) × ১০০, ইকোনমি = রান ÷ ওভার, আর ওভার মানে সর্বদা ছয়টি বৈধ বল। যেমন বিরাট কোহলির ১০২ বলে ৮৯ রানের স্ট্রাইক রেট ৮৭.২৫, আর জাসপ্রীত বুমরাহর ১০-২-৩৪-৩ ফিগারের ইকোনমি ৩.৪০। টি-টোয়েন্টিতে একজন বোলার সর্বোচ্চ চার ওভার, ওয়ানডেতে দশ ওভার করতে পারেন, তাই এই সীমা জানলে ফিগার দেখেই ম্যাচের ছবি বোঝা যায়। ESPNcricinfo-সহ প্রায় সব বড় সাইটে কলামের ক্রম একই থাকে, তাই একবার শিখলেই চলবে। পরামর্শ: প্রতিটি কার্ড পড়া শেষে ব্যাটারদের রান আর এক্সট্রা যোগ করে দলের মোট স্কোরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন; না মিললে কোথাও ভুল পড়েছেন।

The Great Chicken Escape · Free demo

শুনুন, ম্যাচ শেষে যে আপনি শুধু বড় সংখ্যাটা দেখে ফোন রেখে দেন, ওটা স্কোরকার্ড পড়া নয়, ওটা উঁকি দেওয়া। আমি বছরের পর বছর হেরেছি, আর প্রতিবার হারের পর কার্ড খুলে বুঝেছি, সংকেতগুলো আগেই লেখা ছিল, আমিই পড়িনি। বিপিএল বা আইপিএলের রাতে লাখো মানুষ ৫৪ রান দেখে ভাবে "দারুণ ইনিংস", অথচ ওই রান এসেছে ৫২ বল খেলে। ভুলটা ধরতে পারলেন? আজ ওটা শেষ। ক্রিকেট ভক্ত-এর এই গাইডে পাঁচটি ধাপে কার্ডের প্রতিটি লাইন ভাঙব, তারপর বলব ঠিক কোথায় মানুষ আটকে যায়। শুনুন — এটাই আসল কথা: স্কোরকার্ড হলো ম্যাচের মেডিকেল রিপোর্ট, আর রিপোর্ট না পড়ে ডাক্তারি করলে কী হয়, সেটা আপনি নিজের হারের অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন। মজার ব্যাপার হলো, পুরো দক্ষতাটা শিখতে লাগে দশ মিনিট, কাজে লাগবে বাকি জীবন।

শুরুতেই হাত গরম করতে চাইলে নিজের প্রিয় দলের গত ম্যাচের কার্ডটা পাশে খুলে রাখুন, তাহলে পড়তে পড়তে মিলিয়ে নিতে পারবেন।

আরও জানুন

ধাপ ১: ম্যাচের হেডার না পড়লে কী হারান?

ম্যাচের হেডারে দল, ভেন্যু, ফরম্যাট, টস ও ফলাফল থাকে। "৪৫ রানে জয়" মানে প্রথমে ব্যাট করা দল জিতেছে; "৬ উইকেটে জয়" মানে রান তাড়া করা দল জিতেছে। ব্যাটারদের সংখ্যা দেখার আগেই এই এক লাইন থেকে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বোঝা যায়।

হেডার পড়তে ত্রিশ সেকেন্ড লাগে, অথচ বেশিরভাগ ভক্ত এটা এড়িয়ে সরাসরি ব্যাটিং কার্ডে ঝাঁপ দেন। এই চারটি তথ্য পরে প্রতিটি সংখ্যার মানে বদলে দেয়: কে টস জিতল, কে আগে ব্যাট করল, ভেন্যু কোথায়, আর ফরম্যাট কী। ধীর গতির উইকেটে ১৪০ রান আর ব্যাটিং-সহায়ক মাঠে ১৮০ রান প্রায় সমান মূল্যের হতে পারে, কিন্তু হেডার না দেখলে আপনি শুধু সংখ্যাটাই দেখবেন। ESPN-এর আফগানিস্তান এ বনাম ভারত এ ২০২৬ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের পাতায় একটি বিবরণ আছে: প্রভসিমরান সিং ৮৪ রানে আউট হলেন, তখন দলের স্কোর ১৬৭/৩। এই "১৬৭/৩" লেখার নিয়মটা মুখস্থ করুন: আগে দলের রান, তারপর পড়ে যাওয়া উইকেট। নতুনদের অনেকে উল্টো পড়ে ভাবেন তিনশো রানে এক উইকেট! আর রান তাড়ার ম্যাচে "৬ উইকেটে জয়" দেখলে বুঝবেন হাতে ছয়টি উইকেট জমা ছিল, মানে জয়টা আরামের ছিল। এসব ছোট জিনিসই আপনাকে ভিড় থেকে আলাদা করবে।

ধাপ ২: ব্যাটিং কার্ডের কলামগুলো আসলে কী বলে?

ব্যাটিং কার্ডে সাতটি কলাম থাকে: ব্যাটার, আউটের ধরন, R (রান), B (বল), 4s, 6s ও SR (স্ট্রাইক রেট)। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জোড়া হলো রান আর বল, কারণ এ দুটি থেকেই স্ট্রাইক রেট বের হয়: রান ÷ বল × ১০০।

কলাম অর্থ উদাহরণ
R ব্যাটারের করা রান ৮২
B খেলা বৈধ বল ৫৬
4s / 6s চার ও ছক্কার সংখ্যা ৯ / ৩
SR প্রতি ১০০ বলে রান ১৪৬.৪৩

হিসাবটা নিজে করে দেখুন: ৫৬ বলে ৮২ রান মানে ৮২ ÷ ৫৬ × ১০০ = ১৪৬.৪৩। এবার একটা কথা বলি যা বেশিরভাগ গাইড বলে না: স্ট্রাইক রেট একা কিছুই বলে না। পাওয়ারপ্লেতে ১৫ বলে ৩০ আর শেষ ওভারগুলোতে ১৫ বলে ৩০ দেখতে একই, কিন্তু প্রভাব এক নয়। তাই ব্যাটারের স্ট্রাইক রেটকে ওই ইনিংসের দলীয় রানরেটের পাশে রেখে পড়ুন; দলের মোট রান ÷ ওভার সংখ্যাই দলীয় রানরেট। ব্যাটার যদি দলের গড়ের নিচে খেলে অর্ধশতক করেন, তাহলে তিনি আসলে দলকে পিছিয়ে দিয়েছেন, যতই সংখ্যাটা সুন্দর দেখাক। আর হ্যাঁ, ওয়াইড বল ব্যাটারের "বল" কলামে ঢোকে না, তাই রান ও বলের অনুপাত নিয়ে বাজি ধরার আগে এটা মাথায় রাখবেন, বন্ধু।

প্রতিদিনের খেলোয়াড় পরিসংখ্যান ও ব্যাটিং বিশ্লেষণ একসঙ্গে দেখতে চান? ক্রিকেট ভক্ত-এর পাতায় সেটাই পাবেন; পরের পড়াগুলোতেও কাজে লাগবে।

আরও জানুন

ব্যাটিং কৌশল নিয়ে আরও গভীরে যেতে চাইলে দেখুন আমাদের ব্যাটিং কৌশলের গাইড।

ধাপ ৩: আউটের সংক্ষিপ্ত রূপ কীভাবে পড়বেন?

আউটের কলামে সংক্ষিপ্ত রূপ থাকে: b মানে বোল্ড, c মানে ক্যাচ, lbw মানে লেগ বিফোর উইকেট, st মানে স্টাম্পড, run out মানে রান আউট, আর not out মানে ব্যাটার শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। প্রতিটি রূপ বোলারের নামে উইকেট জমা করে কি না, সেটাই আসল প্রশ্ন।

  • b Anderson — অ্যান্ডারসনের বলে সরাসরি স্টাম্প ভেঙেছে।
  • c Smith b Anderson — অ্যান্ডারসনের বলে স্মিথ ক্যাচ ধরেছেন; উইকেট বোলারের।
  • lbw b Anderson — বল প্যাডে লেগেছে, নইলে স্টাম্পে লাগত।
  • st Dhoni b Jadeja — জাদেজার বলে উইকেটরক্ষক ধোনি স্টাম্পড করেছেন।
  • run out (Smith) — ফিল্ডিংয়ের কৃতিত্ব স্মিথের, বোলারের খাতায় কিছু নেই।
  • retired hurt — চোটের কারণে মাঠ ছেড়েছেন; সাধারণত এটি পতিত উইকেট হিসেবে গোনা হয় না।

Wikipedia-র ক্রিকেট আউটের তালিকা অনুযায়ী আউটের ধরন আরও অনেক, তবে স্কোরকার্ডে প্রতিদিন চোখে পড়ে ওপরের ছয়টিই। শুনুন — এটাই আসল কথা: বোলারের উইকেট গুনতে হলে রান আউট বাদ দিন, কারণ রান আউট বোলারের কৃতিত্ব নয়। ম্যাচে ভুল করে যিনি "ওই বোলার তিন উইকেট নিয়েছে" বলে বন্ধুদের সামনে বুক ফোলান, অথচ একটা ছিল রান আউট, তাঁকে আমি চিনি; কারণ একসময় আমিই ছিলাম সেই লোক। আরও একটি জিনিস: "not out" ব্যাটার পতিত উইকেটের তালিকায় (Fall of wickets) আসেন না, তাই তালিকায় কম নাম দেখলে ঘাবড়াবেন না।

ধাপ ৪: বোলিং ফিগার ও এক্সট্রা কীভাবে বুঝবেন?

বোলিং ফিগার পড়া হয় O-M-R-W ক্রমে: ওভার, মেডেন, রান, উইকেট। ৪-০-২৮-২ মানে চার ওভারে কোনো মেডেন ছাড়া ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট; ইকোনমি ২৮ ÷ ৪ = ৭.০০। এক্সট্রার মধ্যে ওয়াইড ও নো-বল বোলারের খাতায় যায়, বাই ও লেগ বাই যায় না।

এখানে একটা ফাঁদ আছে, আর আমি বহুবার এতে পড়েছি। ওভার সংখ্যা দশমিকের মতো দেখালেও আসলে তা দশমিক নয়: ৪.৩ ওভার মানে চার ওভার আর তিন বল, অর্থাৎ ৪.৫ ওভারের সমান। ধরুন বোলার ৪.৩ ওভারে ৩৩ রান দিলেন; সঠিক ইকোনমি ৩৩ ÷ ৪.৫ = ৭.৩৩, কিন্তু দশমিক ভেবে ৩৩ ÷ ৪.৩ করলে পাবেন ৭.৬৭, যা ভুল। কার্ডের শেষে এক্সট্রা লাইনে চার ধরনের রান থাকে: বাই (b), লেগ বাই (lb), ওয়াইড (wd) ও নো-বল (nb)। বাই ও লেগ বাই ব্যাটারের ঘাড়ে নয়, বোলারের ঘাড়েও নয়; এগুলো শুধু দলের মোটে যোগ হয়। আর টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে নো-বলের পর ফ্রি হিট আসে, সেটাও মাথায় রাখবেন। বোলারের ইকোনমি দেখার সময় তার সীমাও দেখুন: টি-টোয়েন্টিতে চার ওভারের কম বল করা বোলারকে অধিনায়ক হয় আস্থা করেননি, নয় সেদিন তাঁর দিন ছিল না।

আরও মজার বিশ্লেষণ চান? বিপিএল ম্যাচ পর্যালোচনা পাতায় আমরা প্রতিটি ম্যাচের বোলিং ফিগার ভেঙে দেখাই।

আরও জানুন

ধাপ ৫: যাচাই — আপনার পড়া কি ঠিক হলো?

যাচাইয়ের সূত্র সরল: সব ব্যাটারের রান আর এক্সট্রা যোগ করলে দলের মোট স্কোর হবে, আর বোলারদের উইকেট যোগ করলে (রান আউট বাদে) পতিত উইকেটের সংখ্যার সমান হবে। দুটি যোগফল মিললে আপনার পড়া নির্ভুল; না মিললে কোথাও কলাম গুলিয়ে ফেলেছেন।

একটি কাল্পনিক টি-টোয়েন্টি ইনিংস ধরুন: ব্যাটাররা করেছেন ৫২, ৩৪, ২৮, ১৯, ১৫, ৬ ও অপরাজিত ৪, যোগফল ১৫৮। এক্সট্রা ১০, তাই দলের মোট ১৬৮। ছয় ব্যাটার আউট, অর্থাৎ ১৬৮/৬। বোলাররা মোট পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন আর একটি রান আউট, তাই ৫ + ১ = ৬, মিলে গেল। এবার একটি ট্রিক, যা বেশিরভাগ গাইডে পাবেন না: পতিত উইকেটের তালিকা (Fall of wickets) থেকে জুটির রান বের করা যায়। ধরুন তালিকায় আছে ১-৪৫ ও ২-৯৩; তাহলে দ্বিতীয় উইকেটের জুটি ৯৩ − ৪৫ = ৪৮ রানের। এভাবে কার্ডের বাইরে কোনো ধারাভাষ্য ছাড়াই বুঝবেন ম্যাচের মোড় কোথায় ঘুরেছিল। চূড়ান্ত যাচাইয়ের তালিকা:

  1. ব্যাটারদের রান যোগ করে এক্সট্রা যোগ করুন; দলের মোটের সঙ্গে মেলান।
  2. বোলারদের ওভার যোগ করুন; টি-টোয়েন্টিতে ২০ আর ওয়ানডেতে ৫০ হওয়া উচিত (ইনিংস পুরো খেললে)।
  3. বোলারদের উইকেট যোগ করে রান আউট যোগ করুন; পতিত উইকেটের সংখ্যার সঙ্গে মেলান।
  4. পতিত উইকেটের তালিকার শেষ স্কোর থেকে মোট স্কোর বিয়োগ করে শেষ জুটির রান দেখুন।

আইনের দিক থেকে স্কোরিং আর আউটের নিয়মের মূল উৎস MCC-র Laws of Cricket; কোনো সন্দেহ হলে সেখানে মিলিয়ে নিন।

সাধারণ ভুল হলে কী করবেন?

সবচেয়ে সাধারণ ভুল তিনটি: ওভারকে দশমিক সংখ্যা ভাবা, স্ট্রাইক রেট আর ইকোনমি গুলিয়ে ফেলা, এবং রান আউটকে বোলারের উইকেট ধরা। প্রতিটির সমাধান নিচে আছে, আর ধরার উপায় হলো যোগফল না মেলা। একটি ভুল একবার ধরা পড়লে বাকি কার্ডও আর গুলিয়ে যাবে না, কারণ ভুলগুলো সবসময় একই জায়গায় ঘটে।

  • যোগফল মিলছে না: আগে এক্সট্রা লাইন দেখুন, বেশিরভাগ সময় ওখানেই বাই বা লেগ বাই বাদ পড়ে যায়।
  • ইকোনমি অদ্ভুত আসছে: ওভারকে বলে রূপান্তর করুন (৪.৩ = ২৭ বল ÷ ৬ = ৪.৫) তারপর ভাগ করুন।
  • স্ট্রাইক রেট ভুল লাগছে: ছাঁকনি হলো রান ÷ বল, ওভার নয়। ইকোনমি হলো রান ÷ ওভার। দুটো দুই ভিন্ন জিনিস, মিলিয়ে ফেললে মজা শেষ।
  • উইকেটের সংখ্যা মিলছে না: রান আউট ও রিটায়ার্ড হার্ট আলাদা করে গুনুন।
  • বৃষ্টি-আইন বা কমানো ওভারের ম্যাচ: ওভার ২০ বা ৫০ না ধরে হেডারে লেখা কমানো ওভার সংখ্যা ধরুন।

আর একটি কথা সোজাসুজি বলি, কারণ বন্ধুরা এভাবেই বলে: স্কোরকার্ড পড়ার দক্ষতা আপনাকে ভালো বিশ্লেষক বানায়, ভাগ্যবান নয়। ফ্যান্টাসি বা বাজির কথা ভাবলে বাজেটের সীমা আগে ঠিক করুন, আর হারানোর মতো টাকার বেশি কখনও রাখবেন না। খেলোয়াড় পরিসংখ্যান পাতা থেকে নিয়মিত ফর্ম দেখে নিন, তবু ক্রিকেট শেষ বল পর্যন্ত অনিশ্চিত।

উপসংহারে একটাই কথা: হেডার, ব্যাটিং কার্ড, আউটের ধরন, বোলিং ফিগার, তারপর যোগফল — এই ক্রমটা পাঁচ ম্যাচ মেনে চললে সপ্তাহখানেকের মধ্যে কার্ডটা আপনার কাছে গল্পের বইয়ের মতো লাগবে। ক্রিকেট ভক্ত-এ আমরা প্রতিদিন ম্যাচ পর্যালোচনা, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান, বিপিএল কভারেজ ও কৌশলের লেখা দিই; সেগুলো পড়তে পড়তে নিজের পড়া মিলিয়ে নিন। আর টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের তফাত বুঝতে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের পার্থক্য লেখাটি দেখে নিন।

শেষ ধাপে নিজের পড়া যাচাই করতে আর প্রতিদিনের আপডেট পেতে এখান থেকে এগিয়ে যান।

আরও জানুন

Frequently Asked Questions

Q: ক্রিকেট স্কোরকার্ড কী?

A: স্কোরকার্ড হলো একটি ম্যাচের সম্পূর্ণ লিখিত হিসাব, যেখানে প্রতিটি ব্যাটারের রান, প্রতিটি বোলারের ফিগার, এক্সট্রা ও পতিত উইকেটের তালিকা থাকে। এটি ম্যাচ শেষে ফলাফলের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। ESPNcricinfo-র মতো সাইটে লাইভ ম্যাচেও এটি বল বাই বল হালনাগাদ হয়, তাই ধারাভাষ্য না শুনেও ম্যাচের অবস্থা বোঝা যায়।

Q: স্কোরকার্ড পড়া শুরু করব কোথা থেকে?

A: আগে ম্যাচের হেডার পড়ুন, তারপর ব্যাটিং কার্ড, বোলিং কার্ড ও শেষে যোগফল মেলান। এই ক্রমে মাত্র দশ মিনিটে একটি কার্ড পড়া যায়। প্রথম কয়েকবার প্রিয় দলের গত ম্যাচের কার্ড হাতের কাছে রেখে হিসাব নিজে কষে নিলে সূত্রগুলো দ্রুত মুখস্থ হয়ে যায়।

Q: স্ট্রাইক রেট আর ইকোনমি রেটের পার্থক্য কী?

A: স্ট্রাইক রেট ব্যাটারের গতি মাপে, আর ইকোনমি রেট বোলারের কৃপণতা মাপে। স্ট্রাইক রেট = রান ÷ বল × ১০০, আর ইকোনমি = রান ÷ ওভার। যেমন ৮২ রান ৫৬ বলে করলে স্ট্রাইক রেট ১৪৬.৪৩, আর ১০ ওভারে ৩৪ রান দিলে ইকোনমি ৩.৪০। ব্যাটারের জন্য বেশি ভালো, বোলারের জন্য কম ভালো।

Q: ৪.৩ ওভারের ইকোনমি কীভাবে বের করব?

A: ৪.৩ ওভারকে ৪.৫ ধরে ভাগ করুন, কারণ ছয় বলে এক ওভার হয়। ৩৩ রান দিলে ৩৩ ÷ ৪.৫ = ৭.৩৩ হয়, কিন্তু ৪.৩ দিয়ে ভাগ করলে ভুল ৭.৬৭ আসে। সহজ উপায় হলো ওভারকে মোট বলে রূপান্তর করে ৬ দিয়ে ভাগ করা, তারপর রানকে সেই সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা।

Q: বোলারের উইকেট আর দলের উইকেট না মিললে কী করব?

A: রান আউট ও রিটায়ার্ড হার্ট আলাদা করে গুনুন, কারণ বেশিরভাগ গরমিল ওখান থেকেই আসে। বোলারদের উইকেট যোগ করে তার সঙ্গে রান আউট যোগ দিলে পতিত উইকেটের সংখ্যা পাওয়া উচিত। তাতেও না মিললে কার্ডটি চলমান ম্যাচের হতে পারে, তখন পাতা রিফ্রেশ করে আবার দেখুন।

Q: স্কোরকার্ড পড়া শেখার জন্য কি কোনো খরচ আছে?

A: না, খরচ নেই, কারণ ESPNcricinfo-সহ প্রায় সব বড় সাইটের স্কোরকার্ড বিনামূল্যে পাওয়া যায়। প্রয়োজন শুধু একটি ফোন বা কম্পিউটার আর একটু ধৈর্য। ক্রিকেট ভক্ত-এর মতো সাইটে ম্যাচ পর্যালোচনা ও পরিসংখ্যানও বিনামূল্যে পড়া যায়, তাই অভ্যাস গড়তে বাড়তি কোনো টাকা লাগে না।

§
❦

ক্রিকেট ভক্ত · Curated Silence · 2026

সম্পর্কিত নিবন্ধ